আত্মশুদ্ধি

মুজাহিদের পাথেয় – শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহিমাহুল্লাহ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় ভাইয়েরা!

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আল্লাহ আপনাদের হিজরতকে কবুল করুন এবং তার উত্তম প্রতিদান দান করুন। আর আমাদের ও আপনাদের সবাইকে ইখলাস ও সত্যের পথে দৃঢ়পদ থাকার তাওফীক দান করুন এবং সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত রাখুন। যেমন তিনি বলেছেনঃ

فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَمَنْ تَابَ مَعَكَ وَلَا تَطْغَوْا ۚ
‘‘অতএব, আপনি আপনার সাথে যারা ঈমান এনেছে, তারা সহ সেভাবে দৃঢ়পদ থকুন, যেভাবে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছেন’’ (সূরা হূদ ১১:১১২)

আর আল্লাহ তা’আলা আমাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠার এ বন্ধুর পথে (জিহাদে) দৃঢ়পদ রাখুন এবং ক্ষতিকর কোন বিপদ ও পথভ্রষ্টকারী কোন পরীক্ষার সম্মুখীন না করেই তার পথে শহীদ করার মাধ্যমে আমাদের জীবন সমাপ্ত করুন। আর আমাদেরকে তাঁর সন্তুষ্টি উপভোগ করার তাওফীক দান করুন। নিঃসন্দেহে তিনি শ্রবণকারী সাড়াদানকারী।

বন্ধুরা! আপনারা বর্তমান যে ইবাদতে (জিহাদ) লিপ্ত রয়েছেন, শান্ত ও পবিত্র হৃদয়ের কাছে তার চেয়ে মধুর ইবাদাত আর নেই। আর আল্লাহ তা’আলাই ইবাদতের মাধ্যেমে বান্দার মনকে যতটা দুশ্চিন্তামুক্ত রাখেন, তা অন্য কোন ইবাদতের মাধ্যমে হয় না।

অন্তর ইবাদতের ভিত্তি
প্রিয় নবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, ‘‘তোমাদের জিহাদ করা উচিত। কারণ, তা জান্নাতের দরজা সমূহের অন্যতম। এর মাধ্যমে আল্লাহ কষ্ট ও দুশ্চিন্তা দূর করেন। কারণ, অন্তরই হচ্ছে ইবাদতের মূল কেন্দ্র যা পুরো শরীরটাকে গতিশীল করে”। তাই অন্তর যতক্ষণ জীবিত থাকে, ততক্ষণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও প্রাণবন্ত থাকে, মন ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত থাকে। আর যখন অন্তর রোগাক্রান্ত হয়, তখন মন ইবাদতের প্রতি অনাসক্ত হয়ে পড়ে। অতঃপর ইবাদতের প্রতি সে অনীহা দেখায়। এ জন্য আল্লাহ তা’আলা নামায সম্পর্কে বলেছেনঃ

وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ
“তোমারা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। আর বিনয়ী লোক ব্যতীত অন্যদের জন্য তা অবশ্যই কঠিন ব্যাপার”(সূরা বাক্বারাহ ২:৪৫)

নামায কঠিন বিষয়। কারণ, নামাযের জন্য তো পা ও হাত দাঁড়ায়না, নামাযের জন্য যা দাঁড়ায়, তা হল অন্তর ও প্রাণ। এ ব্যাপারে কুরআনে ইরশাদ হচ্ছেঃ

إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوا كُسَالَىٰ يُرَاءُونَ
النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلًا
“মুনাফিকরা মনে করেছে যে, তারা আল্লাহকে ধোঁকা দিচ্ছে। বাস্তব কথা হচ্ছে তিনিই তাদেরকে ধোঁকা দিচ্ছেন। তারা যখন নামাযের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তখন খুব আলসতার সহিত করে। আর আল্লাহকে কমই স্মরণ করে”(সুরা নিসা ৪:১৪২)

এ জন্য ইবাদতের জন্য যা দাঁড়ায়, তা হচ্ছে অন্তর। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হচ্ছে অন্তরের অনুগামী। অন্তর যা আদেশ করে সেগুলো তাই পালন করে। অন্তর যখন জীবিত থাকে, তখন ইবাদত তার কাছে সহজ, মিষ্ট ও সুস্বাদু অনুভূত হয়, বক্ষ তার জন্য উন্মুক্ত থাকে। আর যখন অন্তর রোগাক্রান্ত হয়, তখন সে ইবাদতকে অনেক কঠিন জ্ঞান করে।
অন্তর হচ্ছে পাকস্থলির ন্যায়। এ মুহূর্তে মনের কাছে সব চেয়ে প্রিয় খাবার হচ্ছে গোশত। কিন্তু পাকস্থলিতে যখন ক্ষত সৃষ্টি হয়, তখন গোশত, তেল ও চর্বি তার তার নিকট সবচেয়ে ঘৃণা খাবারে পরিণত হয়। কারণ, তা যে (পাকস্থলি) রোগাক্রান্ত!

মিষ্টি খেতে মন চায়। ধরুন আপনি এখন রোযাদার। মন চাচ্ছে আঙ্গুর ফল খেতে। কিন্তু শরীর যখন ডায়বেটিসে আক্রান্ত হয়, তখন আপনি মিষ্টি খেতে পারবেন না, যদিও তা আপনার কাছে প্রিয় । অন্তর এরকমই। তাকে অবশ্যই কঠিন ইবাদতের জন্য শক্তি অর্জন করতে হবে। অন্তর যখন শক্তিবান হয়, তখন যে রকম ইবাদত হোক, তার দ্বারা নিতে পারেন। সে তখন রাত্রিজাগরণের জন্য প্রস্তুত হয়, রাত্রের ইবাদত তখন তার কাছে মিষ্টি ও সুস্বাদু মনে হয়। ঘুম তখন তার শত্রু হয়ে যায়। তাই মু’মিনের বৈশিষ্ট্য আলোচনায় আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ

تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا
“(গভীর রাতে পৃথিবী যখন সুখ নিদ্রায় বিভোর থাকে, তখন) তাদের পার্শ্বদেশে শয্যা থেকে আলাদা হয়ে যায়। তারা তাদের পালনকর্তাকে ভীতি ও লোভ সহকারে ডাকে।’’ (সূরা আস সিজদা ৩২:১৬)

অন্তর তখন তৎপর হয়ে যায়, শয্যার সাথে তার শত্রুতা সৃষ্টি হয়। তারাবীহর নামাযে ইমাম দু-তিন পারা পড়ে। আর সে মনে মনে বলে, যদি ইমাম সাহেব আরো দীর্ঘায়িত করতেন। তবে এ ইবাদতের মজা ও স্বাদ আরো বেশী লাভ করতে পারতাম।

এজন্য আমি কোনো কোনো সময় মানুষকে নিয়ে নাময পড়তাম এবং দীর্ঘায়িত করতাম। যুবকরা এসে বলতো, সকলের প্রতি খেয়াল রেখে ইমামের নামায সংক্ষিপ্ত করা উচিত। আমার পিছনে প্রায় একশ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ ছিল। তার মুখ আলোকোজ্জল। তিনি বলতেন, আপনি দীর্ঘায়িত করুন। তাদের কথার উত্তর দিবেন না। নব্বই-একশত বছরের বৃদ্ধ দীর্ঘ নামাযে মজা পাচ্ছে আর ক্রিড়াপ্রবণ বিশ বছরের যুবক দীর্ঘ নামাযকে কষ্টকর মনে করছে। কেন? সে যদি ফুটবল খেলার মাঠে যেত এবং দু’ঘণ্টা পর্যন্তও খেলা করত বা খেলা দেখত, তাহলে সে ক্লান্ত হত না। কুরআন তিলাওয়াতের পাঁচ মিনিট তাকে কেন ক্লান্ত করছে? দীর্ঘ নামায ও সংক্ষিপ্ত নামাযের মধ্যে সময়ের ব্যবধান তো পাঁচ মিনিট। দীর্ঘতম এশার নামায ও সংক্ষিপ্ততম এশার নামাযের কিরাআতের মধ্যে তো সময়ের ব্যবধান অনধিক পাঁচ মিনিট। সে পাঁচ মিনিটকে বেশী মনে করছে আথচ দীর্ঘ দু’ঘণ্টার ফুটবল খেলা দেখায় তার অনীহা নেই। তাই দু’ঘণ্টা পর্যন্ত ক্লান্ত হীনভাবে বসে থাকতে পারে। আর নামাযের দশ মিনিটকে অনেকে অসহ্য মনে করে। ফুটবল খেলা কিন্তু তাকে ক্লান্ত করে না; দু’ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যাচ্ছে, অথচ সে দাঁড়ানো। আর ইমাম সাহেব যখন জুমু’আর দিন কুরআনের আয়াত ও নবীর হাদীস দ্বারা আধ ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন, তখন কেয়ামত শুরু হয়ে যায়, সে বসতে পারে না। কেন? তুমি তো বসো মসজিদে, ছায়াময় স্থানে। আর খেলার মাঠে তো কোন সময় ছায়া পাওয়া যায় না। এখানে (মসজিদে) এয়ারকন্ডিশনার রয়েছে, ওখানে তো এয়ার এয়ারকন্ডিশনার নেই। এখানে তোমার সাথে রয়েছে ফেরেশতা, তোমার উপর অবতীর্ণ হচ্ছে রহমত ও শান্তি। ফেরেশতার সাথে বসতে তোমার বিরক্তি লাগছে কেন? খতীবের বিরুদ্ধে গিয়ে বলছো’ “খুতবা সংক্ষিপ্ত করা ও নামায দীর্ঘ করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক”। আর বাস্তবে তুমি না দীর্ঘ খুতবা শুনতে রাজী না দীর্ঘ নামায পড়তে রাজী? কারণ, তোমার অন্তর যে অস্থির!

وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ ۚ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَارُ
مُهْطِعِينَ مُقْنِعِي رُءُوسِهِمْ لَا يَرْتَدُّ إِلَيْهِمْ طَرْفُهُمْ ۖ وَأَفْئِدَتُهُمْ هَوَاءٌ
“আর আল্লাহ তা’য়ালাকে জালিমদের কর্মের ব্যাপারে অনবিহিত মনে করবেন না। তিনি তাদের সে দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেণ, যে দিন চক্ষুসমূহ অপলক দৃষ্টিতে তাকাবে। তারা তাদের মাথা উঁচু করে এমনভাবে ধাবিত হতে থাকবে যে, তারা নিজেদের অবস্থার দিকে তাকাবার সুযোগ পাবে না। আর তাদের হৃদয় অস্থির থাকবে” (সূরা ইব্রাহীম ১৪:৪২,৪৩)

কারণ, তার হৃদয় অস্থির, ভীত, বাতাসের সাথে দোলিত হচ্ছে। তাই দায়িত্বশীল তার প্রতি রাগান্বিত, শাসক তার প্রতি অসন্তুষ্ট, পত্র-পত্রিকা তা বিরুদ্ধে রিপোর্ট করছে—ইত্যাদি অভিযোগ শোনতে পাওয়া যায়।অন্তর অস্থির। তাই সে সর্বদা উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকে। সে কখনো স্থির থাকে না। অন্তর অস্থির। তাই তার মন কম্পমান। কেন এ অবস্থা হল? কারণ, তার ইখলাছ নেই, তার মাঝে দৃঢ়তা নেই। অন্তরকে স্থির ও শান্ত করার মত কোন ইবাদত সে করে না। পা দিয়ে আঘাত করলে বাতাসে ভরা বল যেমন স্থির থাকে না তেমনি ক্রিড়া- কৌতুকী অন্তরও স্থির থাকে না। এতে অস্থিরতা থাকবেই। আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরে শান্তি আসে, স্থিরতা আসে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
“ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের অন্তরসমূহ আল্লাহর স্মরণ দ্বারা শান্ত হয়। জেনে রেখো! জেনে রেখো! আল্লাহর স্মরণ দ্বারা আন্তর সমূহ শান্ত হয়” (সূরা রা’দ ১৩:২৮)

তাই শান্ত অন্তর ভীত হয় না, অস্থিরতায় ভুগে না।
ভীতির সরঞ্জাম
এক লোক এসে ইমাম আহমদের নিকটে অভিযোগ করে বলল, জনাব, আমি সুলতান (শাসক) এর ভয়ে ভীত। তিনি বললেন, তোমার আন্তর সুস্থ থাকলে তুমি কাউকে ভয় করতে না। উয়াইস কারানীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “তোমার অন্তর সুস্থ থাকলে তুমি কাউকে ভয় করতে না।’’
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ

فَأَيُّ الْفَرِيقَيْنِ أَحَقُّ بِالْأَمْنِ ۖ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَٰئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ
“বল, দু’দলের কোনটি নিরাপত্তার অধিক যোগ্য, যদি তোমাদের জ্ঞান থাকে? যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে শিরক দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই প্রাপ্য। আর তারাই পথ প্রাপ্ত” (সুরা আনআম ৬:৮১-৮২)

এখন বলুন, নিরাপত্তা কাদের জন্য? ঐসব নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য, যাদের কাজই হচ্ছে জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি কেড়ে নেওয়া? নিরাপত্তা তো তাদেরই জন্য, যারা ঈমান আনার পর শিরক করেনি। এখন বলার অপেক্ষা রাখেনা, নিরাপত্তা কাদের প্রাপ্য। ইব্রাহীম (আঃ) যথার্থ বলেছেন,

وَكَيْفَ أَخَافُ مَا أَشْرَكْتُمْ وَلَا تَخَافُونَ أَنَّكُمْ أَشْرَكْتُمْ بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا ۚ
“আমি তোমাদের যাদের কে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির কর, তাদেরকে কিভাবে ভয় করি? আথচ তোমরা কোন যুক্তি প্রমাণ ছাড়া আল্লাহর সাথে (তাঁর সৃষ্টিকে) সমকক্ষ করাকে ভয় করছ না।” (সূরা আনআম ৬:৮১)

তোমরা আল্লাহর সাথে কৃত শিরককে ভয় কর না আর আমরা তোমাদের এ মূর্তিগুলোকে ভয় করব, যাদের তোমরা পূজা কর? কোন দল নিরাপত্তা পাওয়ার অধিক উপযুক্ত? কাকে ভয় করা, লজ্জা করা এবং কার ভয়ে ভীত থাকা জরুরি? আল্লাহর নাকি মাকড়সার জালের?
ঐসব লোকেরা, যারা দুনিয়ার তাগুতদের প্রতি ভরসা রাখে, তারা আল্লাহর সে কথা শোনে, যা তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ

مَثَلُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ أَوْلِيَاءَ كَمَثَلِ الْعَنْكَبُوتِ اتَّخَذَتْ بَيْتًا ۖ وَإِنَّ أَوْهَنَ الْبُيُوتِ لَبَيْتُ الْعَنْكَبُوتِ ۖ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
“যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করে, তাদের উদাহরণ মাকড়সা। সে ঘর বানায়। আর সব ঘরের মধ্যে তো মাকড়সার ঘরই অধিক দুর্বল। যদি তারা ব্যাপারটি জানতো।।’’(সূরা আনকাবূত ২৯:৪১)।

দুনিয়ার যে সকল শাসক আল্লাহর পথে চলে না, তারা সকলই মাকড়সার জাল। অতএব কে অধিক শক্তিশালী? যে আল্লাহর রাজ্জুকে আঁকড়ে ধরে, সে (وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا “তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রাজ্জুকে আঁকড়ে ধর…” [আলে ইমরান ৩:১০৩] ) নাকি যে মাকড়সার জাল আঁকড়ে ধরে সে?
বাতাস যখন তোমাদের তাঁবুগুলো উড়িয়ে নিয়ে যায়, তখন মাকড়সার জাল দিয়ে কী করবে? ক’টি খুঁটি এ তাবুকে টিকিয়ে রেখেছে এবং ক’টি রাশি একে দৃঢ় করেছে? এরপরও বাতাস তীব্র একে উপড়ে নিয়ে যায়। এখন বলুন, তার কী অবস্থা হবে যে, মাকড়সার জাল আঁকড়ে ধরে আছে, কী তুলনা হতে পারে এতদুভয়ের মাঝে? তুমি যখন আল্লাহর রাজ্জু (কুরআন) কে আঁকড়ে ধরলে, তখন তুমি সুদৃঢ় রাশিকেই আঁকড়ে ধরলে। আহাম্মক কাফেররা মাকড়সার জাল আঁকড়ে থাকুক এতে তোমার কিছু যায় আসেনা।

لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ ۖ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ ۚ فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىٰ لَا انْفِصَامَ لَهَا ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
“দ্বীন গ্রহণ করতে কোন জবরদস্তি নেই। সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য তো সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। অতএব, যে তাগুতের অবাধ্য হয়ে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনল, সে সুদৃঢ় রাশিকে আঁকড়ে ধরল, যা কখনো ছিড়ে যাবার নয়। আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন।’’(সূরা বাক্বরাহ ২:২৫৬)

পাপ ও অন্তরে
কাবীরা গুনাহ হল শরিরের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার মত। যখন হাড় ভেঙ্গে যায়, তখন তাতে নাগানো ব্যান্ডেজের মেয়াদও দীর্ঘ হয়। আর হাড় ভাঙ্গার আঘাত খুব যন্ত্রণাদায়ক। আর হাত যদি ভেঙ্গে যায় তাহলে তা জোড়া লাগতে দীর্ঘ সময় লাগে। আর ভাল হলেও তা আগের মত মজবুত হয় না। হ্যা! আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন বিশেষ অনুগ্রহ হলে অন্য কথা। তখন তা পূর্বের চেয়ে অধিক শক্তিশালী হয়। কারণ, কাতাদাহ বিন নু’মানের চোখ যখন বের হয়ে যায়, তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার চোখকে স্বীয় স্থানে ফিরিয়ে দেন। তিনি তা স্বীয় স্থানে ফিরিয়ে দিয়ে তাতে হাত বুলিয়ে দেন। ফলে আহতটির চেয়ে এটিতে আরো পরিষ্কার দেখায়। তবে সাধারণত যা ভেঙ্গে যায়, তা পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে দেয়া যায় বটে, কিন্তু তা আগের মত হয় না। আর যদি দ্বিতীয়বার ভেঙ্গে যায় তাহলে প্রথম বার ভাঙ্গার পর যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় আর ফিরে আসে না।

আনুরূপ এ অন্তরটাও একটা হাড়ের মত। কাবীরাহ গুনাহ সমূহ হাড়কে পূর্ণরূপে ভেঙ্গে ফেলে। আর ছগীরা গুনাহ হচ্ছে বুলেটের মত যা মাংসে পতিত হয় এবং শিরায় না লাগলে দ্রুত সুস্থ হইয়ে যায়। আর ছগীরা (বুলেট) যদি অধিক হয় তাহলে কোন না কোন শিরায় লেগে যায়। যখন কোন শিরা কেটে যায়, তখন তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অন্তেরর ক্ষেত্রে কাবীরা গুনাহর অবস্থাও ঐ রকম। যখন তা সংঘটিত করা হয়, তখন অন্তর রোগাক্রান্ত হয়ে যায়। তাই তখন ভাঙ্গা হাড় পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার মত অন্তরের সস্থতার জন্যেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। আর ছগীরা গুনাহর ব্যাপার তো সহজ।

কবীরা গুনাহ হচ্ছে বড় পাথরের ন্যায়। ছগিরাহ গুনাহ হচ্ছে ধূলোর মত। আর অন্তর হচ্ছে গাড়ীর সামনের কাঁচের মত, যা থাকা অপরিহার্য সামনে যা আছে তা দেখার জন্য। যদি কাঁচে কোন পাথর মারা হয়, তাহলে ভাঙ্গে যাবে। তখন তোমার উপর বৃষ্টি পড়বে, বাতাস তোমাকে আক্রমণ করবে। চোর ঢুকে গাড়ি চুরি করে নিয়ে যাবে ইত্যাদি।

অনুরূপ অন্তর হচ্ছে একটি কাঁচ, গাড়ীর কাঁচের মত। ছাগীরা তাতে এসে পতিত হতে থাকে এবং ক্রমান্বয়ে তাকে কাল করে ফেলে। যখন ডাষ্টার দিয়ে(ইস্তগফার ইবাদতের মাধ্যমে) তা মোছা হয়, তখন ধুলো-বালি দূর হয় এবং তা আগের মত পরিষ্কার হয়ে যায়। “পঞ্চ নামায মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ, যদি কবীরা গুনাহ থেকে আত্নরক্ষা করা হয়’’ [হাদীস]। কারণ পঞ্চ নামায হচ্ছে ডাষ্টারের ন্যায়, যা কবীরাহ গুনাহ থেকে আত্নরক্ষা করা হলে(অন্যান্য) গুনাহকে পরিষ্কার করে ফেলে। কেন? কারণ, কবীরা গুনাহ তো ভাঙ্গে ফেলে। আর ভাঙ্গা ঠিক করতে ডাষ্টার কি কাজে আসবে? আর ছগীরা অধিক হলে তা কাদায় পরিণত হয়। আর গাড়ীর কাঁচে কাদা লাগলে তাতে ডাষ্টার চালানো গেলেও তা পরিষ্কার করা কঠিন হয়। আর অন্তরে লেগে তা অন্তরকে কাল করে ফেলে। যেমন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘‘গুনাহের কারণে অন্তরে কাল দাগ পড়ে যায়”। আর তাকে পরিষ্কার করে নামায, ইস্তিগফার, সাদকা ইত্যাদি। কিন্তু অনেক সময় ডাষ্টার ব্যবহার না করার ফলে কাল দাগ বৃদ্ধি পায় আর কল দাগ বৃদ্ধি পেতে পেতে এক সময় এমন অবস্থা হয় যে, গোটা অন্তরটাই কাল হয়ে যায়। এ জন্য রাসুলুল্লাহ(সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “তোমরা হাল্কা গুনাহ সমূহ থেকেও বেঁচে থাকবে।’’ অর্থাৎ, ছগীরা গুনাহ। কেন? কারণ, তা একত্রিত হয়ে সংঘটনকারীকে ধ্বংস করে দেয়।

অন্তর যখন কাল হয়ে যায়, তখন বস্তুসমূহের আকুতি তার নিকট অস্পষ্ট হয়ে যায়। তুমি এখন একটি ছবি নিতে চাচ্ছ। ছবি কীভাবে নিবে? ক্যামেরায় দেখবে। ক্যামেরা এমন একটি দর্পণ, যাতে বস্তুর আকৃতি ধরা পড়ে। কিন্তু যখন ক্যামেরায় কাদা লাগবে, তখন তাতে তুমি বস্তুর আকৃতি দেখতে পাবে না। আয়নায় যদি তুমি আকৃতি দেখতে চাও, তাহলে তাতে তোমার আকৃতি ততক্ষণ দেখবে, যতক্ষন তা পরিষ্কার থাকবে।

অনুরূপ অন্তর। বস্তু সমূহের আকৃতি তাতে ধরা পড়ে। যদি তা পরিষ্কার হয়, তাহলে বস্তুসমূহের আকৃতিও তার কাছে স্পষ্টরূপে ধরা পড়ে এবং মানুষ তাকে দেখতে পায়। আর এ কারণে সে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ۗ
“হে মুমিনগণ ! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর চল, তাহলে তোমাদেরকে তিনি(ভাল মন্দের) পারথ্য করার শক্তি দান করবেন” (সূরা আনফাল ৮:২৯)।

এ (শক্তি) দ্বারা তোমারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করবে। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর, তাহলে মিথ্যা থেকে সত্যকে পৃথক করতে পারবে। যদি আল্লাহর ভয় না থকে, তাহলে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবে না। এ জন্য এটা বিস্ময়ের কিছু মনে কর না যদি এমন কিছু লোককে অসত্য বলতে দেখতে পাও, যারা নিজেদেরকে নিষ্ঠাবান বা সত্যের অনুসারী মনে করে।

قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُم بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا
الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا
‘বলুন, আমি কি তোমাদের ঐসব লোকদের সংবাদ দিব, যারা কর্মের দিক দিয়ে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত? তারা সে লোক, জীবনের যাদের কর্ম প্রায়াস ব্যয় হয়েছে ভ্রষ্ট পথে আর তারা মনে করে যে তারা ভাল কাজই করেছে।’’ (সূরা কাহফ ১৮:১০৩)

আর তুমি এতেও বিস্মিত হয়ো না, যদি কিছু লোক বলে যে, এখানে আমাদের অবস্থান করা গুরুত্বপূর্ণ ও সবচেয়ে বড় কাজ এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। আর কিছু লোক তোমাদেরকে বলে যে, তোমরা তো অপরিণামদর্শী ও হুজুগী লোক, যাদের বধশক্তি নেই। আর তুমি তাদেরকে রোযা ও নামাযও আদায় করতে দেখবে এবং তাদেরকে তুমি বিভিন্ন কিতাবের মতন ও ইবারাতও মুখস্থ করতে দেখবে। ঠিক না? মাশাআল্লাহ তাদের অনেকে হাজারো হাদীস মুখস্থ করে, অনেকে বূখারীর বিভিন্ন পারা মুখস্থ করে, ফিকাহর ক্ষেত্রে তাদের অনেকের আবু সুজা’ মুখস্থ, অনেকের ইখতিয়ার ও দাররুল মুখতার মুখস্থ। এমনিভাবে অনেকের অনেক কিতাব মুখস্থ । কিন্তু (মুসলমানদের দূরাবস্থার) এ সমস্যা তারা কেন বূঝে না? তাই তারা যা দেখে তাই বলে। অথচ তারা বাস্থবচিত্র স্পষ্টরূপে দেখতে পারেনি। ফলে তাদের নিকট সত্য প্রভিভাত হয়নি এবং তাদের সামনে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়নি।

সাপ্তাহে আমি তোমাদের জন্য একঘণ্টা সময় দেই। সাপ্তাহে একঘণ্টা! বাকী সাপ্তাহ কোথায় আমি? বাজারে আমি কত মন্দ কাজ দেখি? কত মেয়ে আমার সামনে এসে আমাকে প্রলুব্ধ করে? কত কুদৃষ্টি আমার অন্তর শয়তানের বিষাক্ত তীর পতিত করে তাকে আহত করে ও কষ্ট দেয়? কত মন্দ কাজই না আমি দেখেছি আথচ আমি তা রোধ করতে পারছি না! কত ভাল কাজ আমি পরিত্যক্ত দেখছি অথচ সে ব্যাপারে আমি মূখ খুলত পারছি না! কত অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে অথচ তা রক্ষার জন্য আমি কিছু করতে পারছি না! আর কত ইজ্জত লুণ্ঠিত হচ্ছে তাগুতদের তত্ত্ববধানে ও সহযোগীতায়! আর টেলিভিশন তো রাত-দিন ঈমানদারদের মাঝে অশ্লীলতা ছড়ানোতে নয়োজিত। মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতা ছড়ানো তাদের প্রিয়(১) অভ্যাস।

إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۚ
“যারা মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়াকে পছন্দ করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়াতে ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা নুর ২৪:১৯)

আমি কি টেলিভিশনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারি? আমি কি সুদী ব্যাংক সমূহের বিরুদ্ধে আলোচনা করতে পারি? আমি কি বাজারের পর্দাহীন মহিলাদের ব্যাপারে কিছু বলতে পারি? আমি কি মানব রচিত আইনের বিপক্ষে কিছু বলতে পারি? আমি কি পাঁচতারা হোটেলের অনৈতিকতার বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে পারি যেগুলোতে থাকে উলঙ্গদের বিশ্রামাগার, মাতালদের আড্ডাখানা?
সপ্তাহে তুমি এক ঘণ্টা দরস দাও আর বাকী ১৬৭ ঘন্টা কোথায়?

তোমার নিকটে যেমন উপস্থিত হই, সেভাবে সেনা ক্যাম্পেও আমরা উপস্থিত হওয়া ঠিক না? আমি কি জামাআতের সহিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়লেই যথেষ্ট? ফজরের নামায জামাআত কখনো না ছুটাই কি আখিরাতে আমার মুক্তির জন্য যথেষ্ট? পর্দাহীন কোন মহিলা, মদ ও আড্ডাখানা, আল্লাহর দ্বীন নিয়ে বিদ্রুপ, অন্যায়-অবিচার ও তাগুতের দিকে না তাকালেই কি আমরা মুক্তি নিশ্চিত?

فَأَيُّ الْفَرِيقَيْنِ أَحَقُّ بِالْأَمْنِ ۖ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
“বল, দু’দলকে কোনটি নিরাপত্তার অধিযোগ্য, যদি তোমাদের জ্ঞান বলতে কিছু থাকে’’?(সূরা আনআম ৬:৮১)

যে খলিদ বিন অলীদ মুজাহিদ ক্যাম্পে অবস্থান করে সে, নাকি যে ম্যারাডোনার খেলা নিয়ে ব্যাস্ত সে? ম্যারাডোনা না মাররাদূনা(যে আমাদের রোগীতে পরিণত করল)? কারা? খালেদ ক্যাম্পে, সাদ ক্যাম্প,হাতীন,হুনাইন,আরীন—যে নামগুলো তোমার বক্ষ ও তোমার হৃদয়কে উন্মুক্ত করে।

অতএব, হে আমাদের মুরুব্বী আপনি যা ফাতওয়া দিচ্ছেন, তা কীভাবে দিচ্ছেন? অনেক সময় (মুরুব্বী) নিজেদেরকে সুস্পষ্ট সত্যের উপর মনে করে এবং অন্যদেরকে ভ্রান্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত মনে করে। তারা সে সব অপরিণামদর্শীদের(?) সতর্ক করে, যারা দুর্বলদের সাহায্য ও মুসলমান মা-বোনদের ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করার জন্য মুজাহিদদের সাথে একজোট হয়েছে। তাদেরকে সতর্ক করে এ বলে, তোমরা তাদের সাথে যেয়ো না। তোমাদের এখানে থকাই উত্তম”। এরা বিভিন্ন কথা বলে। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল সম্পর্কে অনেক কথা বলে।

তাদের ব্যাপারে একজন বলল, জিহাদ সম্পর্কে শুধু ক্যাসেট বাজানো হলে কোন কোন দ্বীনদার লোক! যাদের নামই দ্বীনদার! উম্মা প্রকাশ বলে যে, “এটা অমুকের ক্যাসেট”। লা হওলা ওয়া না……লা হাওলা ওয়া লা…ভাই তুমি কেন উম্মা প্রকাশ করছ?

“মুহাম্মদের কাছে ভুলেও বসবে না। সে স্বামি-স্ত্রির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। কারণ সে এক কার্যকর যাদু নিয়ে এসেছে। সতর্ক থেকো”। এসব লোকেরা মক্কার প্রবেশ পথ সমূহে বসে থাকত আর যখন কোন হাজ্বীদের দলের আগমন ঘটত, তখন তাদেরকে বলত, “এ শহরে মুহাম্মদ নামের লোক রয়েছে। তারা কথা শুনতে না পাও মত কানে রুই দাও।’’ তখন কোন কোন বুদ্ধিমান লোক বলত, “আমি তো বুদ্ধিমান লোক উনি কি বলছেন শুনব। যদি তার কথা সত্য হয়, তাহলে অনুসরণ করব। আর যদি মিথ্যা হয়, তাহলে প্রত্যাখ্যান করবো”। সে একজন বুদ্ধিমান লোক তার বুদ্ধি আছে। তুমি বুদ্ধিমান হয়েও জিহাদ বিষয়ক ক্যাসেট শোনা থেকে মানুষকে বিরত রাখ! লা হওলা ওয়ালা—। ভাই তুমি আগে শোন। যদি সত্য হয় এবং তা করতে সক্ষম না হও, তাহলে কমপক্ষে তার আদেশ কর, তার প্রতি মানুষকে উৎসাহিত কর। তাহলে তুমি দু’ফরজের একটি পালন করলে। কারণ, তোমার উপর দু’টি কাজ ফরজ। ১) কিতাল(জিহাদ) করা। ২)কিতালের প্রতি উৎসাহিত করা। যদি তুমি কিতাল করতে না চও, তাহলে কম পক্ষে তার প্রতি মানুষকে উৎসাহিত কর।

এ প্রসঙ্গে উলামায়ে কেরাম বলেছেন, যদি কেউ মদের প্রতি আসক্ত হয়, তাহলে তার জন্য অপরকে মদ ছেড়ে দেওয়ার আদেশ করা তথা মদ পান করা থেকে নিষেধ করা ফরয। সে যদি মদ পানও করে, তাহলে তার জন্য অপরকে মদ ছেড়ে দেওয়ার আদেশ করা তথা মদ পান করা থেকে নিষেধ করা ফরয। সে যদি মদ পানও করে, তাহলে তার জন্য একথা বলা ওয়াজিব যে, ‘মদ পান করা হারাম। লোকেরা তোমরা মদ পান করো না। আমার জন্যও মদ পান থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব’।

তুমি যদি করতে সক্ষম না হও এবং জিহাদের মত ইবাদত তোমার অন্তরে ভীতিকর মনে হয়, তাহলে তুমি কমপক্ষে অপরকে জিহাদের প্রতি উৎসাহিত কর। বল, আল্লাহ আমি তো দুর্বল। আশা রাখি আল্লাহ আমাকে জিহাদ করার শক্তি দান করবেন। আশা করি, আল্লাহ আমাকে দুনিয়াবী স্বার্থে ও প্রবৃত্তি চর্চার বেড়াজালে কেটে জিহাদের দিকে আসার তাওফিক দান করবেন। যদি জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করতে না পার, তাহলে তুমি নিজেকে আল্লাহর পথে বাধা দানে নিয়োজিত কর, তাহলে আল্লাহর কাছে এর চেয়ে বড় তোমার আর কি হতে পারে। আল্লাহ তো আল্লাহর পথে বাধা দান করাকে কুফুরী কাজ বলে অভিহিত করেছেন। অন্য আয়তে বলেছেন-

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ
نُّذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ
“যারা কুফরী করে এবং আল্লাহর পথ ও মসজিদে হারাম থেকে (মানুষকে) বিরত রাখার চেষ্টা করে, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি।’’(সূরা হজ্জ ২২:২৫)

الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ أَضَلَّ أَعْمَالَهُمْ
“যারা কুফরী করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃস্থি করে, তিনি তাদের কর্ম বিনষ্ট করে দেন” (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:১)

অতএব, আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করা কুফরের সাথে সম্পৃক্ত বিষয় (কুফরী কাজ)। অনেক সময় দেখা যায় কিছু লোকের (কথিত আলেমদের) বিভিন্ন কিতাবের মতন ও টিকা-টিপ্পানি মুখস্থ। আর তারা জিহাদের উৎসাহী ঈমান দিপ্তি যুবকদের বলে যে জিহাদে যাওয়ার চেয়ে তাদের এখানে থাকাই উত্তম। আমাকে আলজেরিয়ার এক যুবক বলল যে, আমরা শুধু আপনার জিহাদের ক্যাসেট বাজালেই নামায ও রোযা পালনকারী কিছু লোক উষ্মা করে বলে, “এগুলো জিহাদের ক্যাসেট!” এ লোকগুলো জিহাদের কথা শুনলেই মাথা নীচু করে চোরের মত করে চলে যায়। লা হওলা ওয়ালা—। তাদের উপর আল্লাহর এ কথা পতিত না হওয়ারই কামনা করি তাঁর নিকট।

فَمَا لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ
كَأَنَّهُمْ حُمُرٌ مُسْتَنْفِرَةٌ
فَرَّتْ مِنْ قَسْوَرَةٍ
“অতএব, তাদের কি হল যে , তারা উপদেশ (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে চলেছে। তারা যেন সন্ত্রস্ত্র গর্দভপাল যেগুলো শিকারীর ভয়ে পলায়নরত” (সূরা মুদ্দাচ্ছির ৭৪: ৪৯,৫১)

তারা যেন বন্য গাধা যেগুলো সিংহের ভয়ে পলায়ন করেছে। ভীতির ব্যাপারেই বন্য পশু গাধা ও সিংহের এ উদাহরণ দেয়া হয়েছে। আল্লাহর নিকট কামনা করছি যেন তাদের অবস্থা কুরআনের বর্ণিত এ কাফেরদের বক্তব্যের সাথে মিলে না যায়।

لَا تَسْمَعُوا لِهَٰذَا الْقُرْآنِ وَالْغَوْا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَغْلِبُونَ
“এ কুরআন শ্রাবণ কর না এবং আবৃত্তিতে হট্টগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হও” (সূরা হা-মীম সিজদাহ ৪১:২৬)।

তাদের মধ্যে কিছু সৎ ও ভাল লোক রয়েছে। কিন্তু তারা অজ্ঞ কিংবা অধিক গুনাহ করার ফলে অন্তর অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হয় না।
এ জন্য তাদের উপর যখন কোন বিপদ তথা ফিকহী জটিলতা আপতিত হত, তখন সমাধানের জন্য আলেমগণ খিলাফতের রাজধানী বাগদাদ বা দমশকে একত্রিত হতেন। আর তারা যদি ঐ সমস্যার সমাধান খুঁজে না পেতেন, তাহলে বলতেন, গুহায় অবস্থানকারীদের কাছে এ সমস্যার সমাধান চাও। কারণ, তারা আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী এবং এ কারণে তারা এর সমাধান দান করার তাওফিক (ক্ষমতা) প্রাপ্ত। গুহাবাসী কারা? তারা হল আবুশ-শাহীদ ও তার বাহিনী। তার তো অসহায়, কিতাবের মতন ও টীকা তো তারা পড়েনি, তারা তো ইবনে আবেদীনের টীকা, দাসূকীর কৃত আল কাবীরের টীকা গ্রন্থ মুখস্থ করেনি। কেন তারা সমাধান দিতে সক্ষম হচ্ছে? ভাইয়েরা! দ্বীন সহজ এবং কুরআন বুঝাও সহজ।

وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ
“আমি মানার জন্য কুরান(বুঝা) সহজ করে দিয়েছি। অতএব, বুঝবার কেউ আছ কি?”(সূরা কামার ৫৪:২২)

কুরআন বুঝা সহজ। সমস্যর সমাধান কিতাবের ইবারত মুখস্থ করে দেওয়া যায় না। সমাধান বুদ্ধিমত্তা দিয়েই হয়, যে বুদ্ধিমত্তা অন্তরের আলো দ্বারা দেখতে পায়। আমাদের অন্তরের কি এমন আলো আছে, যা দ্বারা সে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করে নাকি অন্তরের আলো নিভে গেছে ও তার অন্ধকার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ফলে সে আর ভাল-মন্দের পার্থক্য করছে না? “তোমাদের কী অবস্থা হবে, যখন তোমার ভালকে মন্দ জ্ঞান করবে আর মন্দকে ভাল জ্ঞান করবে”? (হাদীস)। মানুষ যখনই ইবাদত থেকে, সত্য ও কল্যাণ থেকে এবং ত্যাগ ও দান করা থেকে দূরে সরে যায়, তখন প্রকৃত ব্যাপার তাদের কাছে সংশয়পূর্ণ ও অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।

আনাস(রাঃ) বলেন, “হে মানুষ! আল্লাহর কসম তোমরা এমন কিছু কাজ করছ, যা তোমাদের নিকট চুলের চেয়ে ক্ষুদ্র মনে হয়। আমরা ঐ সব কাজকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগে কবীরা গুনাহ বলে গণ্য করতাম।’’ সব ব্যাপারে তুচ্ছ মনে হয় আপনাদের নিকট এমনকি জিহাদে বের হওয়া থেকে বিরত থাকাও? হ্যা! অবশ্যাই। কারণ, আপনাদ দেশ এখন হুমকির মুখে। অতএব, ওখানে যেয়ো না। এখানে সতর্ক থাক, এখানে দৃরপদ থাক এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি গ্রহণ কর। ভাই তুমি কি প্রস্তুত করছ? ধান চাউলের কুলা, গোশত ও ফলফ্রুট।

আফসোস! শত্রুর মূখোমুখি হলে এরা কোথায় যাবে। এরা কি তাদের মেদ দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবে নাকি তাদের তেল ও চর্বি দিয়ে? এরা যদি ‘সাদা’ ও ‘খালেদে’ মাস দুয়েক না কাটায় এবং আফগানিস্তানে প্রবেশ করে মাস ছয়েক পাহাড়ে চুড়া ও বরফের মধ্যে হাটাহাটি না করে এবং তাদের চর্বি গলে হাড্ডি ও চামড়া থাকা পর্যন্ত অবস্থান না করে, তাহলে কীভাবে শত্রুর মকাবিলা করবে? এরা তাদের ন্যায়, যারা খাটে বসে সাতার শিখছে। এক যুবক সাঁতার শিক্ষার বই নিয়ে খাটে বসে এবং ডান হাত-বাম হাত নাড়ানাড়ি শুরু করে। সে যখন খাটে সাঁতার কাটা ভালভাবে শিখে নিল, তখন তার সাথীদের বলল, আস আমি সাঁতার শিখেছি, এ বলে সে সাগরে গেল এবং নিজেকে তাতে ধ্বংস করল।

যা ভুলবার নয়
যারা নিজেদের ইজ্জত-সম্মান ও জান-মাল রক্ষা করেতে চায়, যারা আল্লাহর দ্বীনকে রক্ষা করতে চায়। যারা পবিত্র স্থান সমূহের হিফাযত কামনা করে, যারা বায়তুল মুকাদ্দাসকে ফিরে পেতে চায় এবং তাকে ইহুদীদের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করতে চায়, তারা যদি সরঞ্জাম প্রস্তুত না করে ও প্রশিক্ষন না করে এবং যুদ্ধাস্ত্র তাদের রক্ত ও জীবনের একটা অংশে পরিণত না হয়, তাহলে মনে করতে হবে তারা খাটে বসেই সাঁতার শিখছে।

আবদুর নাসের এখন তার রবের নিকট চলে গেছে। সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে না তাতে চিরকাল থাকবে তা আল্লাহই ভাল জানেন। আমরা মনে করি, সে ঈমান হারা হয়ে মরেছে। কারণ, সে কুরআন সুন্নাহ বিরোধী আইন দ্বারা শাসন করা অবস্থায় মারা গেছে। আর যে কুরআন সুন্নাহ বুরোধি দ্বারা দেশ শাসন করে সে তো ধর্মদ্রোহী। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন-

أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ ۚ
“তাদের কি এমন কিছু উপাস্য রয়েছে, যারা এমন দ্বীনের উদ্ভাবন করেছে,আল্লাহ যার অনুমতি দেননি?(সূরা শুরা ৪২:২১)

সে শিরক চর্চা করতে থাকে। সে ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে শিরক করে। আর এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আর সে শিরক (ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে শিরক) হল আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে নিজে আইন বানানো। আর আমি মনে করি না আপনাদের মধ্যে যারা অন্তরে অনু পরিমান ঈমান আছে, সে তাকে ভালবাসতে পারে।
আবদুর নাসেরের মহব্বত তথা তাগুতের মহব্বত আর আল্লাহর মহব্বত কোন অন্তরে একত্রিত হতে পারে না । আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পূর্বে তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করা অবশ্যাক।

فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىٰ
“অতএব, সে তাগুতকে পরত্যাখ্যান করলো এবং আল্লার প্রতি ঈমান আনল, সে মজবুত রশিকেই আঁকড়ে ধরল।’’ (সূরা বাকারাহ ২:২৫৬)

মোটকথা, ইসলাম কেবল সেভাবেই কায়েম হতে পারে, যেভাবে প্রথমে কায়েম হয়েছিল প্রিয় নবী (সাঃ) এর হাতে। ইসলাম শুরুতে তাওহীদের এমন নির্ভেজাল দাওয়াতের মাধ্যামে কায়েম হয়েছিল, যা মূর্তি সমূহকে বাইরে ধ্বংস করার পূর্বে অন্তরে ধ্বংস করে দিয়েছিল। শুধু কিতাব পড়ার মাধ্যমে তাওহীদ উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তাওহীদ উপলব্ধি করা যায় বালা-মুসীবত, দুঃখ-কষ্ট ও পরীক্ষার সম্মুখিন হওয়ার মধ্য দিয়ে। যে-ই দুঃখ কষ্ট ও পরিক্ষা থেকে মুক্ত থেকে জীবন যাপন করে, তার পক্ষে আল্লাহর দ্বীন বুঝা সম্ভব নয় আর যদি তাকে কোন দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে তার পক্ষে দ্বীনের আমানত রক্ষা করাও সম্ভব নয়। এ জন্য আমরা দেখতে পাই তাগুতী সরকারগুলো ইসলামি আন্দোলনের কর্মীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির কাস্টে ঝুলানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় কিতাবের মতন ও টীকা মুখস্থকারীদের সাহায্য লাভ করে।

কেন? এসব আলেমদের তো কুরান-হাদীস ফিকাহ তাদের (ইসলামি আন্দোলনের কর্মীদের) চেয়ে শত শত গুন বেশী মুখস্থ। কিন্তু তাওহীদ ইসলামি বীর সেনানীদের অন্তরে স্থান লাভ করে কষ্ট ও পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়ার মাধ্যে দিয়ে। আর এসব আলেমরা তো তাওহীদ ও ফিকাহর জ্ঞান অর্জন করেছে। কিতাবের পৃষ্টা ও পাতা উল্টিয়ে।

সায়েদ কুতুব (রাহঃ)-কে ফাঁসির কাস্টের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। তখন আল আযহাবের একজন আলিম তার কাছে যাচ্ছে তাকে শেষ বারের মত কালেমা তাওহীদ পড়াতে। সে তার নিকট গিয়ে বলল, সে সাইয়েদ! তিনি বললেন, জি! সে বলল, বলুন আশাদু আল্লাহ্* ইলাহা ইলাল্লাহ—-। তিনি বললেন, তুমিও এসেছো! তুমি তো আসছ আবদুন নাসেরের নাটক সম্পন্ন করার জন্য। আমাদের ফাঁসি দেয়া হচ্ছে লা ইলাহা ইলাল্লাহু বলার কারণেই। আর তোমরা তো লা ইলাহা ইলাল্লাহু দ্বারা রুটি-রুজি অর্জন করছ। যারা লা ইলাহা ইলাল্লাহু দিয়ে রুটি-রুজি অর্জন করে তারা এবং সেসব পূণ্যাত্মাদের মধ্যে অনেক অনেক দূরেত্ব, যারা লা ইলাহা ইলাল্লাহু বলার কারণে ফাঁসির রশিতে ঝুলে জীবন দেয়।

অতএব, ধারণাগত তাওহীদ এবং বাস্তবতার তওহীদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে, যা তাগুতদের ক্ষমতার ভিত্তি ও গদিতে জোর কম্পন সৃষ্টি করে। আর পার্থক্য রয়েছে ইসলামের দাঈ ও সে সব লোকদের মধ্যে, যাদেরকে নিয়োজিত করা হয়েছে ইসলামি আন্দোলনের কর্মীদের তাগুতদের ইচ্ছানুযায়ী শাস্তিদান ও দমন করার পক্ষে ফতওয়া প্রদান করার জন্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button